চীনের তৈরি কৃত্রিম সূর্য!

 

হ্যালো বন্ধুরা চীন পুরো পৃথিবীর মধ্যে এমন একটি দেশ যার সম্বন্ধে সারা পৃথিবীর মানুষ কি ধারনা রাখে তা আমি আর বলতে চাই না! সব ধরনের ডুবলিকেট জিনিস বানাতে পাড়া চায়না কখনো নকল ডিম কখনো প্লাস্টিকের চাল আবার কখনো নকল সবজি সব ধরনের নকল জিনিস বানিয়ে মার্কেটে বেচাকেনা করতে থাকে, কিন্তু শেষমেশ চায়নার এমনকি প্রয়োজন পরলো যে তারা নকল সূর্য বানানোর জন্য এত উৎসুক হয়ে পড়লো? পৃথিবীর সমস্ত মানুষ অবাক হয়ে পরল যখন কিছু মাস আগে চীন জনসমক্ষে নকল সূর্য বানাতে সফল হয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করল! নকল সূর্য মানে এমন এক সূর্য যেটার তাপমাত্রা আসল সূর্যের থেকেও দশগুণ বেশি, মানে যে সূর্য আপনার কয়েক প্রজন্ম ধরে সকালে পূর্ব দিক থেকে উঠতে দেখেন এবং রাতের বেলায় পশ্চিম দিকে অস্ত যেতে দেখেন, সেটার থেকেও অধিক তাপমাত্রা সম্পন্ন একটি আর্টিফিশিয়াল সূর্য (Artificial Sun) তৈরি করা হয়ে গিয়েছে চায়নার দ্বারা! এমনথায় এরকম প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে চায়না নকল সূর্য বানানোর এমনকি প্রয়োজন ছিল? এই সূর্যটাও কি প্রতিদিন এর মতন সকালে উঠবে এবং সন্ধ্যা বেলায় অস্ত যাবে? চায়না কি এই সূর্যের মাধ্যমে পুরো পৃথিবী কে নিজের হাতে আনতে চাইছে? চাইনা এই নকল সূর্য বানিয়ে সবাইকে আসলে কি প্রমাণ করতে চাইছে? আমি জানি এই সকল প্রশ্ন গুলো আপনাদের মনে নিশ্চয়ই ঘোরাফেরা করছে! তাই আজকের এই পোস্টটিতে আমি চায়নার তারা করা এই অদ্ভুত খেলা সম্বন্ধে প্রতিটা ডিটেলসে আপনাদেরকে বলবো এবং এটাও বলব যে ইলেকট্রনিক জিনিস থেকে শুরু করে খাদ্যবস্তুর জিনিসকে নকল বানানো চায়না কিভাবে নকল সূর্য বানাতে সফল হল! আর কীভাবেই বা সূর্যটা তৈরি হলো, আর এর পেছনে আসল কারণটা কি! তবে বেশি দেরি না করে চলুন আজকের আলোচনা শুরু করা যাক! এটাতো পুরো পৃথিবীর লোক জানে যে‌ চায়না এমন একটি দেশ যারা নিজের বিস্তার নীতি উপরে চলে, এরা এমন একটি দেশ যারা সবসময় নিজেদের সীমানা বাড়ানোর চেষ্টা করে! এরা এমন একটি দেশ যারা ধীরে ধীরে নিজেদের আশেপাশে থাকা প্রায় সব জিনিসকে কব্জা করে পুরো পৃথিবী কে নিজের হাতে করে নিতে চায়! আর ঠিক এই কারণগুলোর জন্যই চীন মাঝেমধ্যে এমন কিছু না কিছু নতুন আবিষ্কার খুঁজে বার করে যেটার কারণে পুরো পৃথিবী কোন না কোন রকম বিপদের সম্মুখীন হয়! যেমন হালি সেটার কারণে পুরো পৃথিবীর মানুষকে বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল অর্থাৎ করোনাভাইরাস চীন থেকেই কিন্তু জন্ম নিয়েছিল যেটার কারণে এখন পর্যন্ত পুরো পৃথিবীতে না জানি কত লক্ষমানুষের মৃত্যু হয়েছে! তাই চীন যখনই একটা অদ্ভুত দাবি করে তখন সেটা তৎক্ষণাৎ পুরো পৃথিবীতে একটা ব্রেকিং নিউজ হয়ে দাঁড়ায়, আসলে চীন এমন একটা কাজ করে দেখিয়েছে যেটা সম্বন্ধে আপনি কখনো স্বপ্নেও চিন্তা করতে পারবেন না! চায়না আমাদের আকাশে মজুদ থাকা সূর্যের থেকেও দশগুণ বেশি শক্তিশালী নকল সূর্য তৈরি করে ফেলেছিল, কিন্তু এর থেকেও বেশি অবাক করার বিষয় এটাই যে এই নকল সূর্য না তো কখন উদয় হবে আর না তো কখনো অস্ত যাবে, অর্থাৎ এটাকে নিজেদের মন মর্জি মতন ব্যবহারের জন্য প্রয়োগ করা যাবে, এই নকল সূর্য এমন এক ধরনের আর্টিফিশিয়াল (কৃত্রিম) সূর্য যেটার ওপর কোনো রকম জিনিস এর ইফেক্ট পড়বে না! যেমন ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি! মানে এটা এমন এক ধরনের আর্টিফিশিয়াল সূর্য যেটাকে নিজেদের প্রয়োজন মতো ব্যবহার করে সেটার তাপ শক্তির মাধ্যমে যতখুশী সোলার এনার্জি তৈরি করা যাবে, এবার এই সবকিছু জানার পর আপনাদের মনে এই প্রশ্নটা নিশ্চয়ই উঠেছে যে যখন আমাদের আকাশে আগে থেকেই একটি শক্তিশালী সূর্য রয়েছে তার পরেও কেন চীনের নকল সূর্য বানানোর প্রয়োজন হলো? তাহলে কি নকল সূর্য বানানোর পেছনে চীনের কোন খারাপ উদ্দেশ্য রয়েছে? চীনকি সারা বিশ্বকে আবার নতুন বিপদে ফেলার প্ল্যান করছে? বন্ধুরা সর্বপ্রথম আমাদের এটা জানা দরকার যে সূর্য থেকে নির্গত হওয়ার শক্তি আমাদের জন্যে অনেক প্রয়োজনিয়! সূর্য থেকে নির্গত হওয়া শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় কারণ সূর্যের উষ্ণতার মধ্যে ইলেকট্রন মজুদ থাকে, আর সেটার মাধ্যমে ইলেকট্রনিক জেনারেটর তৈরি হয়, আর এই কারণেই পুরো পৃথিবীর লোক সোলার প্যানেল (Solar panel ) লাগিয়ে সোলার এনার্জিকে স্টোর করতে চায়, কারণ এতে খরচের পরিমাণ অনেকটাই কম, সূর্য থেকে নির্গত হওয়া শক্তিকে রিনিউয়েবল এনার্জির (Renewable energy) সোর্স ও বলা হয়ে থাকে, অর্থাৎ এটা শক্তির এমন উৎস যেটা কখনো শেষ হবে না! আপনারা এটা জানলে আরো অবাক হবেন যে চায়না ২০০৬ সালে এই কৃত্রিম সূর্যের উপর কাজ করা শুরু করে দিয়েছিল! চায়না এই বিপদজনক প্রজেক্টার নাম রেখেছিল (ইস্ট), আর আপনারা তো এটা সবাই জানেন যে চায়না পৃথিবীর মধ্যে এমন একটি দেশ যারা প্রায়ই সেইরকম কার্যকলাপ করে থাকে যেগুলো এখনও পর্যন্ত এই পৃথিবীর কেউ দেখাতে পারেনি! আর এই কারনেই প্রায় ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর চায়না শেষমেশ নকল সূর্য কে তৈরি করতে সফল হয়েছে, এরপর আপনারা এটা জানলে আরো অবাক হবেন যে চায়না কেবলমাত্র নকল সূর্য বানানোর দাবি করেনি বরং ঐরকম সূর্য থেকে ১০০ সেকেন্ড পর্যন্ত ১২০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপন্ন করেছে এবং এটার থেকেও অবাক করার বিষয় এটাই যে এই নকল সূর্যের তাপমাত্রা আসল সূর্যের তুলনায় ১০ গুণ বেশি! চায়নার এই এক্সপেরিমেন্টের পর চায়নাই একমাত্র দেশ হিসাবে গণ্য হয়েছে যারা এত বেশি রিনিউয়েবল এনার্জি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে! হয়তো এই কথাটাই আমাদের বিশ্বাস হবেনা যে চায়নার এই এক্সপেরিমেন্ট এর দুই মিনিট এরপর নকল সূর্যের তাপমাত্রা ১৬০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল!


ছবিতে আপনি যেই বড় মেশিন টাকে দেখতে পাচ্ছেন এটা সেই মেশিন যেটার সাহায্যে চায়না এই বিপদজনক এক্সপেরিমেন্ট টাকে করেছিল, এবার হয়তো আপনাদের মনে আরেকটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যে চায়নার কেন এত অধিক তাপমাত্রার শক্তি তৈরি করার প্রয়োজন পড়লো, যখন আমাদের আকাশে মজুদ থাকা সূর্য থেকে এত বেশি পরিমাণে শক্তি আসে! যেটার হাত থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে এসি, কুলার না জানি আরো কত কিছু জিনিসের প্রয়োজন পড়ে? তবে আসল সূর্য থেকে নির্গত হওয়া এত শক্তি থাকার পরেও কেন তার থেকেও বেশি শক্তি উৎপন্ন করার প্রয়োজন পরলো চায়নার? এর কারণে সর্বপ্রথম আপনাদেরকে বলে দেই যে আর্টিফিশিয়াল সূর্য বানানোর স্বপ্ন ১৯৮৫ সালে ৩৫ টি দেশ মিলে দেখেছিল! এইসব কয়টি দেশ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যে ফ্রান্সের প্যারিসে এই আর্টিফিশিয়াল সূর্যটি তৈরি করা হবে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজ থেকে ৩৫ বছর আগে দেখা স্বপ্নটা আজও অসম্পূর্ণ হয়ে রয়েছে! কিন্তু অন্যদিকে পুরো পৃথিবী কে নিজের হাতে করে নেওয়ার ইচ্ছে থাকা চায়না এই প্রোজেক্টের ওপর খুব মনোযোগ সহকারে কাজ করতে থাকে এবং বর্তমান সময়ে ৩৫ টি দেশের স্বপ্নটা তারা সত্যিতে পরিণত করে দেয়, এটা নয় যে কেবলমাত্র চীন দেশেই এই প্রজেক্ট এর উপর কাজ করেছিল, ফ্রান্সো এইরকম প্রজেক্ট এর উপর কাজ করেছিল এবং হতে পারে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের এই প্রজেক্টটি সফল হয়ে যেতে পারে, এদের ছাড়া সাউথ কোরিয়াও এই রকম ধরনের একটি প্রজেক্ট এর উপর কাজ করেছে এবং তারা প্রায় অনেকটা সফল হয়ে এসেছে, সাউথ কোরিয়া তাদের নকল সূর্যের মাধ্যমে মাত্র ২০ সেকেন্ডে এক কোটি ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা জেনারেট করেছিল কিন্তু একটা কথা আমাদের আজকে মানতেই হবে যে প্রজেক্ট এর উপর সব দেশ এখনো পর্যন্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে সেখানে চীন বাজিমাত করে ফেলেছে! এটা তো আপনারা সবাই জানেন যে চায়না এমন একটি দেশ যারা লম্বা সময় ধরে এই পৃথিবীর রাজা হওয়ার চেষ্টা করছে! চায়নার প্রত্যেকটা পদক্ষেপ সবসময় আমেরিকা এবং জাপানের থেকে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করে, এই কারণেই চায়না গরিব দেশ গুলোকে প্রথমে কর প্রদান করে তারপর তাদের জমিকে তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়! কিন্তু হালেই চায়না যে প্রযুক্তিতে সফল হয়েছে সেটার কারণে কোথাও না কোথাও তাদের গুরুত্ব অনেক পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে! এই প্রজেক্ট এর মাধ্যমে চায়না শক্তি উৎপন্নর দিক থেকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হয়ে যাবে, এবার আমি আপনাদেরকে যে কথাগুলো বলব সেগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ুন যদিও বর্তমান সময়ে আমাদের সূর্য থেকে নির্গত হওয়া তাপমাত্রার কারণে এসি তে থাকার প্রয়োজন পড়ে এবং কুলারের প্রয়োজন পরে কিন্তু আপনারা এটা জানলে অবাক হবেন, যে আমাদের আকাশে থাকা সূর্যশক্তি ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে! পৃথিবীর সবথেকে বড় স্পেস এজেন্সি নাসা (NASA) এই কথাটা অনেক বছর আগেই সবার সামনে বলে দিয়েছিল, নাসা বলেছিল যে আমাদের আকাশগঙ্গা থেকে মজুদ থাকা অন্যান্য তারাদের তুলনায় সূর্য অনেক তাড়াতাড়ি কমজোরি হয়ে যাচ্ছে! আর এরকমটা যদি হয়ে যেতে থাকে তবে সেইদিন আর বেশি দেরি নেই যখন এই পৃথিবীতে আবার আইস এজ শুরু হবে! এমনথায় নকল সূর্য তৈরি করতে পারলে জীবদের বাঁচিয়ে রাখার আশা করা যেতে পারে, আপনারা এটা জানলে অবাক হবেন যে চায়না নকল সূর্য বানাতে তো বলতে গেলে প্রায় সফলেই হয়ে গিয়েছে তার সঙ্গে সঙ্গে নকল চাঁদ বানানোর প্রজেক্টেও অলরেডি কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং খুব তাড়াতাড়ি আমরা এটা শুনতে পাবো যে চায়না নকল চাঁদকেও বানাতে সফল হয়ে গিয়েছে! চায়না এটা বলে দিয়েছে যে যখন তারা নকল চাঁদ বানাতে সম্পূর্ণ সফল হয়ে যাবে তখন সেটাকে মহাকাশে স্যাটেলাইট এর মতন স্থাপিত করে দেবে এবং সেটার পজিশন এমন ভাবে সেট করবে যে সেটা আলো যাতে পৃথিবীর প্রতিটা কোনায় পৌঁছাতে পারে, এবার আপনারা এটা আন্দাজ করতেই পারছেন যে, যে পূর্ণিমার রাত টা দেখার জন্য আমরা বহুদিন ধরে অপেক্ষা করি সেটা বিগত কিছু সময়ের পরে সেই রাতটা হয়তো আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে! কারণ এমনটা হতে পারে যে ওই নকল চাদের কারণে পৃথিবীতে কোন সময় অন্ধকারই হবেনা এর থেকে বেশি অবাক করার বিষয় এটা যে চায়না নিজেদের যদি এই প্রচেষ্টাকে ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন করে ফেলবে বলে আশাবাদী, খবর অনুসারে চায়না যে নকল চাঁদটি তৈরি করছে সেটা এক বিশাল ধরনের কাচের মাধ্যমে তৈরি হবে আর সেই বিশেষ ধরনের কাচের উপর সূর্যের আলো পড়বে আর কাচের তৈরি নকল চাঁদটি সূর্যের আলোকে আরো দশ গুণ বাড়িয়ে আমাদের পৃথিবীতে পাঠাবে চায়নার মতানুসারে নকল চাঁদের মাধ্যমে যে আলো আমাদের পৃথিবীতে পড়বে সেই আলোটি এতটাই অধিক পরিমাণে হবে যে শহরের যে কোন কোনাতে স্ট্রীট লাইটের কোন প্রয়োজন পড়বে না! আর চায়না কেবলমাত্র একটা নকল চাঁদকে নয় বরং একসঙ্গে তিনটি নকল চাঁদ লঞ্চ করবে বলে আশাবাদী! সে যাই হোক আপনার এই বিষয়ে কি মতামত অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন, আজকের পোস্টটি আশা করি ভালো লেগেছে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। 

𒆜ধন্যবাদ𒆜

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url