সিকাডা 3301 কি? What is Cicada 3301?

২০১২ সালের চৌঠা জানুয়ারি (4th January, 2012) 4chan নামক একটি ওয়েবসাইটের বুলেটিন বোর্ডে ছবিসহ একটি মেসেজ পোস্ট করা হয় ওয়েবসাইটের নীতিমালা অনুযায়ী ছবি প্রকাশকারীর নাম পরিচয় গোপন রাখা হয়, অজ্ঞাত পোস্টকারী সেই ছবিতে ব্যবহারকারীদের চিত্রের মাঝে লুকানো একটি বার্তা উন্মোচন করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান! সেই মেসেজটিতে লিখাছিল


“হ্যালো, আমরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যাক্তিদের খুঁজছি। তাদের খোঁজার জন্য আমরা একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এই ছবিতে একটি মেসেজ লুকানো আছে। এটা কে খুঁজে বের করো। এটাই তোমাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে আসবে। আমরা সেসব স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তিকে দেখার অপেক্ষায় আছি যারা এটি সম্পূর্ণ করতে পারবে।

গুড লাক”

আর নিচে ছিল একটি কোড (3301) পুরো ইন্টারনেট দুনিয়া তোলপাড় হয়ে গেল যেন হঠাৎ করেই পৃথিবীর সেরা হ্যাকার এবং কোড সমাধান কারীরা নিজেদের বুদ্ধিমত্তা প্রমাণের জন্য এ পরীক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়লো আর এই রহস্যময় ধাঁধার নাম দেওয়া হল সিকাডা 3301 (Cicada 3301)

১ম ধাঁধা

সিকাডা (cicada) অর্থ উচ্চিংড়ে বা ঘুর্ঘুরে পোকা!

ছবি পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে এটি কোন গোপন গোয়েন্দা সংস্থার কাজ হতে পারে ক্রিপ্টোগ্রাফি (cryptography), স্টেনোগ্রাফি (stenography) এবং অন্যান্য সম্পর্কিত ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যে অবশ্য তখনো এটি গুজব ছাড়া কিছুই ছিল না! সারাবিশ্বের সব কোড সমাধান কারীরা ব্যস্ত তখন ছবিটি ডিকোড (Decode) করতে কিন্তু কেউই কোন ক্লু (Clue) পায়নি! এই ধাঁধার সমাধান করা যেন অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে এগিয়ে যাওয়া কারণ কেউই জানে না এর শেষ কোথায় কিংবা কারা অপেক্ষা করছে পর্দার ওপারে! অবশেষে ছবি প্রকাশের কিছুদিন পর জোয়েল এরিকসন (Joel Eriksson) নামক একজন যুবক আবিষ্কার করেন যে এই ছবি টেক্সট এডিটর দিয়ে ওপেন করলে গোপনীয় এনক্রিপটেড (Encrypted) কিছু কোড পাওয়া যাচ্ছে! চলুন জোয়েল এরিকসনের সাথেই আগানো যাক এই ধাঁধার উন্মোচনের দিকে! শুরু হলো তার মাথা ঘামানো সে স্টেনোগ্রাফি সফটওয়্যার এর সাথে এগিয়ে যায়, জুয়েল বলেন যে 
“ঘটনাক্রমে আমি ২০১২ সালে সেই সিকাডা ৩৩০১ এর ধাঁধার সন্ধান পাই। দুর্ভাগ্যক্রমে, আমি সবার থেকে পিছিয়ে ছিলাম। কারণ, আমি ছবি প্রকাশিত হওয়ার অনেক পরে এটি দেখতে পাই। প্রথমদিকে আমি ব্যাপারটা বেশ সহজ ভাবে নিয়েছিলাম। যেন কোনো সহজ ধাঁধা সমাধান করছি। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম ব্যাপারটা এত সহজ হবে না। কিন্তু আমি কখনো হাল ছেড়ে দিই নি। সব সময় এমন কিছু চাইতাম যা আমার ঘাম ছুটে দেবে। তাই সিকাডা আমার জন্য খুব আকর্ষণীয় ছিল।” 
যাইহোক টেক্সট এডিটর দিয়ে ওপেন করার পর দেখা গেল কোডগুলো সাজালে অন্য আরেকটা লিংক তৈরি হয় 


জোয়েল এরিকসন সেই লিংকে ক্লিক করতেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো একটি হাঁসের ছবি এবং সেই সাথে ইংরেজিতে লেখা

“ওপস,
এটা শুধুই ফাঁদ। 
মনে হচ্ছে তুমি ঠিকমত ধাঁধার সমাধান করতে পারোনি।”
হতাশ না হয়ে তিনি লেখাগুলোর মাঝের দুটি শব্দ সূত্র দেখতে পায় একটি হলো আউট (out) একটি হলো গেস (guess) দুটি মিলে হয় আউটগেস, আউটগেস (outguess) নামক এক স্টেনোগ্রাফি সফটওয়্যারের মাধ্যমে জোয়েল এরিকসন আবার শুরু করলেন মাথা ঘামানো! পেশায় ক্রিপ্টোগ্রাফি গবেষক জুয়েল এবার খুঁজে পেলেন আসল জিনিস! হাঁসের এই ছবির মাঝে লুকানো বেশকিছু সংখ্যার সমন্বয় তৈরি এক নতুন ধাঁধা, কোড ব্রেক করে আবার পাওয়া গেল লিংক! এবার রেডডিট (Reddit) ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়লেন তিনি সেখানে পড়লেন আরেক বিপদে! রেডডিট এর পুরো পেইজ জুড়ে সব অদ্ভুত সাংকেতিক ভাষায় কিছু পোস্ট করা হয়েছে, শুরু হলো আবার মাথা ঘামানো, এদিকে সিকাডা ফোরাম জমে উঠেছে বিভিন্ন ফ্যাক্ট ফিকশনে তাদের সাহায্য নিয়ে রেডডিট এই পেজে পাওয়া গেল কিছু ক্লু কিন্তু তার সমাধানে প্রয়োজন একটা বই সেই পেজেই আরো সব কোড ভেঙে দেখা গেল বইটির নাম দ্য ম্যাবিনোজিয়ন (The Mabinogion) সিকাডা ফোরামে অন্যান্য হ্যাকাররাও বইটি বের করতে সহায়তা করেছিল! এটি মধ্যযুগীয় কাব্যমালার সমন্বয়ে রচিত একটি পুস্তক, এরিকসন তার স্টেনোগ্রাফি নিয়ে কাজে লেগে গেলেন সেই ক্লু ডিকোড করতে কিন্তু আবার বিপদ কারণ বার্তার মাঝে বেশ কিছু ধাঁধা লুকিয়ে আছে! যার উত্তরে বেরিয়ে আসবে কিছু সংখ্যা এবার পাওয়া গেল একটি ফোন নম্বরের অংশ এটি টেক্সাসের (Texas) কারো নাম্বার এর অংশ! জুয়েল এরিকসন টেক্সাসের ফোন সহায়িকা ঘেঁটে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য ফোন নম্বরের তালিকা তৈরি করে ফোন দিতে থাকে একেক করে, একসময় পাওয়া গেল কাঙ্খিত ফোন নাম্বার! না, কোন মানুষ ধরে নি সেই ফোন! রেকর্ড করা যান্ত্রিক কন্ঠে কেউ বলে উঠে-
"দারুণ!
তুমি খুবই ভালো করেছো।
এবার প্রথম ছবিতে ফিরে যাও।
সেখানে আরো তিনটি প্রাইম নাম্বার লুকিয়ে আছে।
তাদের একটা ৩৩০১.
বাকি দুটো তুমি খুঁজে বের করবে।
এরপর তিনটি সংখ্যা একত্রে গুন করে গুণফলের পরে .com বসিয়ে চলে যাও তোমার পরবর্তী ধাঁধার জগতে। শুভকামনা।
বিদায়।"
শুধু জোয়েল এরিকসন না এমনকি কিছু প্রাইভেট মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও এর সমাধান করতে লেগে গিয়েছিল! ধাঁধা কি জন্য ছিল? এর পিছনে কে ছিল? শেষে পৌঁছলে কি হয়? কেউ জানতো না এর উত্তর! অনেকেই এটাকে নিছক রসিকতা হিসেবে মন্তব্য করেন জুয়েল তখনও ব্যস্ত বাকি দুটো সংখ্যা খুঁজে বের করতে! স্টেনোগ্রাফি ব্যর্থ হলো এখানে জোয়েল এরিকসনের ভ্রু কুচকে গেলে এখানে! কি মুশকিল এই ধাঁধার কি কোন শেষ আছে! কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি যেহেতু স্টেনোগ্রাফি ব্যবহার করেও তিনি নতুন কিছু বের করতে পারলেন না তাই তিনি সফটওয়্যারের ব্যবহার ছেড়ে নিজের চোখে ছবিখানা পরখ করতে থাকেন, কিছুদিন পরখ করার পর তিনি পরবর্তী দুটি সংখ্যা বের করার খুব সহজ একটা উপায় বের করলেন মজার ব্যাপার হলো বাকি দুটো সংখ্যা পাওয়া গেল প্রথম ছবির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হিসাব করে! দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং 3301 গুন করে সাথে ডট কম লাগিয়ে যে ওয়েব এড্রেস পাওয়া গেল সেখানে একটা কাউন্টডাউন (Countdown) চলছিল এবং সাথে ছিল সিকাডার একটি ছবি,

জোয়েল এরিকসন অপেক্ষা করতে থাকে কাউন্টডাউন শেষ হওয়া পর্যন্ত তারপর পুরো ওয়েবসাইটের চেহারা একদমই বদলে যায়! সেখানে চলে আসলো বেশ কিছু সংখ্যা যা দেখে বোঝাই যাচ্ছিল কিছু স্থানে স্থানাঙ্কের তালিকা স্থানাঙ্কগুলো গুলো বিশ্বজুড়ে ৫ টি ভিন্ন দেশের ১৪টি অবস্থান দেখাচ্ছিলো! স্পেন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং পোল্যান্ড এর বিভিন্ন স্থান নির্দেশ করা আছে সেই স্থানাঙ্ক গুলোতে! কিন্তু এরিকসনের পক্ষে এতগুলো দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব নয়! তাই তিনি সিকাডা সমাধানকারীদের নিজস্ব গবেষক রাখলেন এরিকসন জানতেন তিনি থামবেন না এতদূর এসে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবেন অন্যদিকে সিকাডা 3301 একটি সংগঠন বলে যারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন তারা এবার নড়েচড়ে বসলেন! বুঝতে পারলেন এটা কোন ট্রল নয় একদমই অন্য কিছু! প্রচন্ড মাথা খাটানো হয়েছে প্রতিটি কোডে কিন্তু জুয়েল তার হতাশা ভুললেন না তিনি বললেন
"ফোরামে পুরো ব্যাপারটা খুব হতাশাজনক ছিল। বিশেষ করে যখন মানুষজন সমাধান বের করে অন্যজনকে জানিয়ে দিচ্ছিল। সবাই যেন সিকাডাকে সাথে নিয়েছিল। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অনেকেই নিজের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছিলাম। তাই খুব বিরক্ত হয়েছিলাম মানুষের বোকামিতে।"
আস্তে আস্তে সিকাডা ফোরামে স্থানীয় সিকাডা সমাধান কারীরা প্রতিটি স্থানে একটা করে সিকাডার পোস্টার সাথে কিউআর কোড (QR code) আবিষ্কার করে 

আবিষ্কার করে জোয়েল এরিকসন শুরু করেন তাঁর মাথা খাটানো কিউআর কোড গুলো নিয়ে যায় একটা ছবিতে সেই ছবিতে আবার ধাঁধা ধাঁধার সমাধান নিয়ে যায় একটি বইয়ে সে বই থেকে আরেকটি ওয়েবসাইটে কিন্তু সেই লিঙ্কে প্রবেশ করতে প্রয়োজন টর ব্রাউজার! যারা ডিপ ওয়েব ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে হালকা একটুও জানেন তাদের টর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানার কথা, টর নেটওয়ার্ক এ আপনার অনলাইন পরিচয় কে ছদ্মবেশে বিভিন্ন টর সার্ভার দিয়ে এনক্রিপশন করিয়ে তারপরে সে ট্রাফিক কে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানো হয় ফলে আপনার পরিচয় ট্র্যাক করা অসম্ভব হয়ে পড়ে!
মাথা খারাপ হওয়ার মত অবস্থা কিন্তু এখানে ধাঁধাটি একটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়! কারণ প্রথম কয়েকজন ধাঁধা সমাধান কারীদের খুঁজে পাওয়ার পর বাকি সবার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে তারা একটি বার্তা দিয়ে সাইটটি বন্ধ করে দিয়েছে তারা!
"আমরা অনুসরণকারীদের নয়, সেরাকে চাই"
চূড়ান্ত প্রার্থীদের অন্যদের সাথে পাজেল (Puzzle) এর ফাইনাল স্টেজের কিছু শেয়ার করতেও নিষেধ করা হয়, সময়ের সাথে হেরে যান জোয়েল এরিকসন! প্রায় একমাস নীরবতার পর রেডডিট এ ধাঁধাটির সমাপ্তি ঘোষণা করে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, সেখানে লেখা ছিল-

"হ্যালো, আমরা যাদের খুজছিলাম তাদের পেয়েছি, আর এখানে শেষ হচ্ছে আমাদের জার্নি। এখন ধন্যবাদ সবাইকে তাদের চেষ্টার জন্য, যারা টেস্ট কমপ্লিট করতে পারেননি বা আমাদের থেকে কোনো ইমেইল পাননি তারা হতাশ হবেন না আরও সুযোগ আসবে ধন্যবাদ সবাইকে। 
3301"
এখানে অনেকেই ব্যাখ্যা দেয় যে ধাঁধাটি সবার সময় নষ্ট করার রসিকতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না! কিন্তু প্রশ্নগুলো উত্তরহীন রয়ে যায় দেখে মনে হচ্ছিল এখানেই সব শেষ! কিন্তু কে জানত এটা কেবল শুধুমাত্র! এরিকসন বিফল হলেও যারা টরের লিঙ্কে ঢুকতে পেয়েছিলেন তাদের মাঝের একজনের নাম হল টেকনোলাগি (TEKKNOLAGI) তিনি সিকাডা 3301 এর রহস্যটা খুলতে সক্ষম হয়েছিল! চলুন এবার যাওয়া যাক তার সাথে, জোয়েল এরিকসন না পারলেও অনেকেই সেই টর ব্রাউজার এর লিংকে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সেই একজন হলেন টেকনোলাগি নামের এক ছাত্র! এই নাম ব্যবহার করে তিনি সিকাডা 3301 এর রহস্য খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন! টর ব্রাউজার এর সেই লিংকে প্রবেশ করার পর নতুন ছবির ধাঁধা সন্ধান পাওয়া যায়, সেই ছবিতে সিকাডা 3301 একটি বইয়ের কথা ইঙ্গিত করেছিল সেটি হচ্ছে উইলিয়াম ব্লেক (William Blake) রচিত "The Marriage of Heaven and Hell" সেখান থেকে সহায়ক চাবি বের করে তিনি আরেকটি টর ব্রাউজার এর লিংক এর লিংক এর সন্ধান পান! সেখান থেকে আরও কোড ডিকোড করার পর তাকে সিকাডা 3301 থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এই কোডটি একটি নির্দিষ্ট জিমেইল ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে, তিনি তাই করার পর তাকে একটি সুসংবাদ প্রেরণ করা
"আর কোন ধাঁধা নেই। তুমি বিজয়ী হয়েছো"
তারপর কি হলো সেটা একটু পর বলছি!
২য় ধাঁধা
এই জটিল খেলার পিছনে যে ছিল সে সব সময় প্রতিটা ছবি বা ধাঁধায় একটা ডিজিটাল সিগনেচার জুড়ে দিত! ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারত আসলেই সেটা ঠিক সিকাডা 3301 এর কাছ থেকে এসেছে কিনা, সিকাডার হারিয়ে যাওয়ার ঠিক এক বছর এক দিন পর এমনই আরেকটা ছবি আবার পোস্ট করা হয়! এটার ডিজিটাল সিগনেচার জানান দেয় যে এটা সিকাডা 3301 এর থেকেই এসেছে! আবার তোলপাড় হয় ইন্টারনেট দুনিয়া! নেশার মতো লেগে যায় মানুষ রহস্যের খোঁজে দ্বিতীয় ধাঁধাটি প্রথম ধাঁধাটির থেকে খুব একটা আলাদা না ছবি থেকে কোড, কোড থেকে বই থেকে লিংক আস্তে আস্তে পাজেল খুলতে শুরু হয় আগের মতই, একসময় সেই রেকর্ডিং এবার পার্থক্য হলো ইনস্ট্যান্ট ইমারজেন্স নামের একটি মিউজিক ফাইলে থাকে কোড, আর একটা ক্লু একটি এনক্রিপটেড টুইটার অ্যাকাউন্টে নিয়ে যায় সেখানে পাওয়া যায় একটা ছবি এটাতো ছিল রুনিক (runic) বর্ণমালায় লেখা কিছু কোড বেশ কিছু সময় ব্যবহারকারীরা এখানে থমকে থাকে! তারা একসময় সফলো হয় কোড ভাঙতে পাওয়া যায় আবার কিছু স্থানের স্থানাঙ্কের তালিকা আবারো কিছু পোস্টার এবার ছিল চারটি দেশের আটটি জায়গা
কিন্তু আবারও প্রথম কয়েকজন ধাঁধার সমাধান কারীদের খুঁজে পাওয়ার পর বাকি সবার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় তারা! কিন্তু প্রথমবারের মতো রেডডিটে ঘোষণা দেওয়া হয় না এবার একদম উধাও হয়ে যায় তারা! কিন্তু এখানেও শেষ নয়! 
৩য় ধাঁধা
২০১৪ সালে আসে তৃতীয় রাউন্ড সেই একই ছবি, বই, কোড, লিংক কিন্তু এবার দেখা গেল ধাঁধা একটি বই কে কেন্দ্র করে করেছে বইটির নাম ছিল লিবার প্রাইমাস (LIBER PRIMUS) যার অর্থ প্রথম বই, লেখক কে জানেন? সিকাডা স্বয়ং! বইটি লিখা রুনিক ভাষায় প্রতি পদে পদে দেওয়া বিভিন্ন দার্শনিক ও আদর্শিক ধারণা! কিন্তু এবার বেশিরভাগ লিংক ছিল ডার্ক ওয়েবের রেফারেন্স! রুনিক ভাষায় লেখা সেই বইয়ের বেশিরভাগ কোড এখনো ভাঙ্গা সম্ভব হয়নি! ২০১৫ সালে সিকাডা কোন ছবি পোস্ট না করলেও ২০১৬ সালে লিবার প্রাইমাস বইয়ের কোড ভাঙার অনুরোধের একটা ছবি পোস্ট করে তারা এরপর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তাদের! প্রশ্ন রয়ে যায় ধাঁধা কি জন্য ছিল? এর পিছনে কে ছিল? শেষে পৌঁছলে কি হতো? প্রথম ধাঁধার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীরা এই ইমেইল টি পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয় যার সারমর্ম ছিল- 
“আমরা একটি আন্তর্জাতিক সংঘ যাদের কোন নাম, চিহ্ন কিংবা পরিচয় নেই। আমাদের সদস্যদের কোন তালিকাও আমরা তৈরি করিনি। আমাদের কোনো বিজ্ঞাপন নেই। তোমরা হয়তো ভাবছো আমরা কি করতে চাচ্ছি... শুধু এতটুকুই বলব, আমরা তোমাদের মত মেধাবী এবং চিন্তাবিদ। আমরা ইন্টারনেট মুক্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি এবং তোমরা সম্মতি প্রদান করলে আমাদের পরবর্তী প্রকল্পের অংশীদার হতে পারবে।”
এই ই-মেইলে সিকাডা তাদের একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হিসেবে প্রকাশ করে, তারা বিশ্বাস করে যে গোপনীয়তা একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার! প্রতিটি ধাঁধার উদ্দেশ্য হল পৃথিবীতে গোপনীয়তার বিষয়ক সমস্যা গুলোর সমাধান করার প্রচেষ্টায় সম্ভাবনা ব্যক্তিদের নিয়োগ করা! বিজয়ীদের সম্ভবত ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে সিকাডার সাথে বৈঠক ও নিয়োগ দেওয়া হয়! ২০১৫ সালে রোলিংস্টোন (RollingStone) কে দেওয়া প্রথম ধাঁধা দুই তথাকথিত বিজয়ী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন যে তাদের ডার্ক ওয়েবে একটি ফোরামে নেয়া হয়েছিল, তারা বলেন-
“সেখানে বেশ কিছু লোক ছিল।
আমি জানিনা তারা কারা কিংবা কি চায়।
সবকিছুই কেমন অদ্ভুত লাগছিল।
তারা যা বলছিল, তা আমরা নিজেরাও ভালোভাবে বুঝতে পারছিলাম না।”
সেখানে তাদের কিছু অদ্ভুত প্রশ্ন করা হয়, তাদেরকে বলা হয় আমরা ইন্টারনেট মুক্তিতে বিশ্বাস করি! আমরা কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি, এতে হতাশ হয়ে ওই দুইজন সরে আসেন! পরে সিকাডাও তাদের সাথে আর যোগাযোগ করেনি কিন্তু আরও যারা বিজয়ী ছিল তাদের পরিচয় কেউই জানেনা! একটি গোপন সংস্থার ক্রিপ্টোগ্রাফিক ধাঁধা দিয়ে নিয়োগের ধারণাটা কিছুটা ওযুক্তিক এমনকি ষড়যন্ত্রমূলক মনে হতে পারে কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন নয়! ইউএস নেভি ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা GCHQ এবং ইতিহাস আগেও ছিল! সিকাডা 3301 ইন্টারনেটের জগতে অন্যতম এক বিস্ময় হয়েই রয়ে গেছে এখনো, এই ধাধার সূত্রপাত ইন্টারনেটে হলেও এর কার্যক্রম কিন্তু পরিচালিত হয় টেলিফোনে, সংগীতে, অপ্রকাশিত এবং দুষ্প্রাপ্য কিছু বইতে, ডিজিটাল ছবি এমনকি বিভিন্ন জায়গায় ছাপানো কাগজের মাধ্যমে! কিন্তু এর সবটাই লুকানো হয়েছে এনক্রিপশন এবং এনকোডিং করে! এই ধাঁধার সিরিজগুলো শুধুমাত্র কম্পিউটারে বসে সমাধান করা যাবে না! এর জন্য প্রতিযোগীকে যেতে হবে বিভিন্ন জায়গায়! এর পিছনে কারা আছে? 
কি তাদের উদ্দেশ্য? কিংবা কেন তারা হঠাৎ করে চুপ হয়ে যায়? এসব প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নেই! আবার কি ফিরে আসবে তারা নতুন কোন ধাঁধা নিয়ে? কে জানে! 
তো বন্ধুরা আজ এই পর্যন্তই সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন দেখা হচ্ছে পরবর্তী পোস্টে! 



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url