মাল্টিভার্স ও প্যারালাল ইউনিভার্স কি? Multiverse and Parallel Universe theory!


 আমার বিশ্বাস এই কথার সাথে কেউ দ্বিমত করবে না, শুধু মানুষ কেন আমাদের আশেপাশের সব কিছুই ইউনিক, যেমন পৃথিবীর কোথাও আপনি আপনার বাড়ির পরিবেশ পাবেন না, প্রত্যেকটি স্থান, পরিবেশ, প্রাণী, শিল্পকর্ম ইউনিক! এই ইউনিকনেস (uniqueness) বিষয়টির সাথে আমরা এতটাই পরিচিত যে তা নিয়ে আমাদের মনে কোন সংশয় নেই, আমাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বুঝতে পারি প্রত্যেকটি মানুষ এবং বস্তু আলাদা, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানে এমন একটি হাইপোথিসিস (Hypothesis) বা ধারণা সামনে এসেছে যা আমাদের বলে কোন কিছুই ইউনিক নয়! আপনি, আমি, আমরা কেউ ইউনিক নই! হয়তোবা আমার, আপনার এবং সকল বস্তুর ডুপ্লিকেট (Duplicate) রয়েছে! হয়তোবা আমার মত অনেক এম.এস. তালহা রয়েছে! তাদের পেশা ও হয়তো বা ভিন্ন ভিন্ন, এই অদ্ভুত হাইপোথিসিস এর নাম হচ্ছে মাল্টিভার্স (Multiverse) .

আমরা যদি আমাদের সোলার সিস্টেম (solar system) 
থেকে বের হই তবে আমরা দেখব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি, আরো একটু বড় পরিসরে দেখলে দেখব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মতো আরো অসংখ্য গ্যালাক্সি! এভাবে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাইরে হয়তো বা রয়েছে আরও অসংখ্য মহাবিশ্ব, শুধু তাই নয় প্রতিনিয়ত হয়তোবা নতুন নতুন মহাবিশ্ব তৈরি হচ্ছে, এসব ভিন্ন ভিন্ন মহা বিশ্বের মধ্যে কোনটিতে হয়তোবা মেটার (Matter) এর আচরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন, কোনোটিতে হয়তবা রয়েছে আমাদের মত সোলার সিস্টেম তবে হয়তো সেখানে গ্রহ গুলোর বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভিন্ন! আবার কোনোটিতে হয়তোবা অন্য কোনো প্রাণী ডমিনেট (dominate) করছে, এখন মাল্টিভার্স অনুযায়ী যেহেতু মহাবিশ্বের সংখ্যা অসীম ফলে হয়তো কোনো একটি মহাবিশ্বে একদম আমাদের মত ডুপ্লিকেট পৃথিবী থাকতে পারে 
সেইসাথে একদম আমাদের ডুবলিকেট মানুষ! মাল্টিভার্স ধারণাটি খুবই অদ্ভুত যা অনেকের কাছে মনে হতে পারে একদমই ফালতু এবং আহাম্মকি ধারনা! তবে বর্তমান সময়ে অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন মহাজাগতিক চিন্তার ক্ষেত্রে আমল সংশোধন নিয়ে আসবে এই মাল্টিভার্স ধারণা! আমরা যদি একটু পিছনে ফিরে দেখি তাহলে আমরা দেখব একটা সময় মনে করা হতো পৃথিবী হচ্ছে এই মহাবিশ্বের কেন্দ্র এবং পৃথিবী কে কেন্দ্র করে সবকিছু আবর্তিত হচ্ছে এরপর গ্যালিলিও (Galileo) , কোপার্নিকাস (Copernicus) দের মত মানুষের কল্যাণে আমরা জানতে পারলাম পৃথিবীতে নয় সূর্যকে কেন্দ্র করে সবকিছু আবর্তিত হচ্ছে তারপর আমরা জানতে পারলাম সূর্য সহ সম্পূর্ণ সোলার সিস্টেম মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারদিকে আবর্তিত হয় এরপর আমরা জানতে পারলাম মহাবিশ্বে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি একা নয় রয়েছে অনেক অনেক গ্যালাক্সি!
সুতরাং সময়ের সাথে সাথে মানুষের জানার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে ভবিষ্যতে হয়তো বা মাল্টিভার্স বিষয়টিও সত্য হতে পারে! যাইহোক এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই মাল্টিভার্স ধারণাটি আসলো কিভাবে? এর উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে একদম শুরু থেকে শুরু করতে হবে, অর্থাৎ ১৪ বিলিয়ন বছর আগে সংঘটিত বিগব্যাংয়ের (Big bang) একদম সূচনালগ্নে! প্রথম যখন বিগব্যাং তত্ব সামনে আসে তখন বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এই বিগব্যাং তত্ত্ব থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না যেমন হরিজন প্রবলেম (horizon problem) , মহাবিশ্ব কেন ফ্ল্যাট (flat) ? মনোপল (monopole) এবং মহাবিশ্বের এক্সপেনশন রেট ইত্যাদি! এর ধারাবাহিকতায় অ্যালেন গুথ (Alen Guth) একটি ধারণা দেন মহাবিশ্বের একদম প্রাথমিক পর্যায়ে কিভাবে পার্টিকেল তৈরি হয়েছে তা নিয়ে! যাকে বলে ইনফ্লেশন (inflation) বাংলায় অর্থ হতে পারে স্ফীত হওয়া বা ফুলে-ফেঁপে ওঠা! তবে সরল বাংলায় অর্থ হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি! যাইহোক অ্যালেন গুথ বিগব্যাংয়ের ঠিক পরবর্তী মুহূর্তে মহাবিশ্বের এক্সপেনশন রেট নিয়ে কাজ করছিলেন তখন অ্যালেন গুথ ক্যালকুলেশন করে অদ্ভুত একটি বিষয় দেখতে পারেন তিনি দেখতে পান বিগব্যাংয়ের ঠিক পরবর্তী মুহূর্তে গ্রাভিটি (gravity) এর আচরণ ছিল রিভার্স (reverse) অর্থাৎ আকর্ষণ করার বিপরীতে বিকর্ষণ ধর্মী! অদ্ভুত মনে হলো এটা অসম্ভব কিছু নয় এমনকি গ্রাভিটি এর এই উল্টো আচরণ আলবার্ট আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটি (General relativity) এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়, যাইহোক অ্যালেন গুথ ম্যাথমেটিক্যাললি দেখান যে বিগব্যাং সংঘটিত হওয়ার পর টেন টু দি পাওয়ার মাইনাস থার্টি এইট (10 to the power -38) সেকেন্ডের মধ্যে খুবই টাইনি স্পেস এক্সপ্লোশন (tiny space explosion) এর মাধ্যমে মুহূর্তেই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মত আকার ধারণ করে! এবং মুহূর্তেই এই বিশাল পরিমাণ প্রসারণ এর পর স্পেস স্বাভাবিক ভাবে প্রসারিত হতে থাকে! এবং এই ডিসকভারি (Discovery) এর সবচেয়ে চমৎকার বিষয় ছিল এটি অবজারভেশন এর মাধ্যমে এর সত্যতা প্রমাণ করা সম্ভব! এই ইনফ্লেশন থিওরি কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড “cosmic microwave background" সম্পর্কে প্রেডিকশন (prediction) করেছিল, তারপর ২০০১ সালে উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ অ্যানিসোট্রপি প্রোব (WMAP) নামক একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয় যা কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড পর্যবেক্ষণ করে যার ফলাফল প্রেডিকশন এর সাথে সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়! এভাবে ইনফ্লেশনের সত্যতা প্রমাণিত হয়, পরবর্তীতে আন্দ্রেই লিন্ডে (Andrei Linde) এবং আলেকজান্ডার ভিলেনকিন (Alexander Vilenkin) এই একই ইনফ্লেশন তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেন, তবে তারা দেখতে পান ইনফ্লেশনের ম্যাথমেটিক্যাল ইকুয়েশন (inflation mathematical equation) থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয় ব্যাখ্যা করা যায় এবং এই নতুন বিষয়টি হলো বিগব্যাং ইউনিক কোন ইভেন্ট নয় বরং বিগব্যাং এর মত ইভেন্ট প্রতিনিয়ত ঘটছে অর্থাৎ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মহাবিশ্ব সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরো মহাবিশ্ব সৃষ্টি হবে! অর্থাৎ বিগব্যাং একটি চলমান প্রক্রিয়া বিশেষ করে আলেকজান্ডার ভিলেনকিন (Alexander Vilenkin) বলেন ইনফ্লেশন হয়তোবা কোন একটি কারণ থেমে যাচ্ছে কিন্তু এই ইনফ্লেশন বিষয়টি কোথাও না কোথাও চলমান থাকছে এবং এ ধারণাকে বলা হয় ইটার্নাল ইনফ্লেশন (Eternal inflation) . ইটার্নাল ইনফ্লেশন তত্ত্বের মাধ্যমে সর্বপ্রথম মাল্টিভার্স এর ধারণার জন্ম! মাল্টিভার্স কনসেপ্ট অনুযায়ী মহাবিশ্বের সংখ্যা অসংখ্য কিন্তু এসব মহাবিশ্ব ডিটেক্ট করা সম্ভব নয় কারণ প্রত্যেকটি মহাবিশ্ব নিজে প্রসারিত হচ্ছে সেই সাথে দুইটি মহাবিশ্বের মাঝের স্থান প্রসারিত হচ্ছে তার মানে কোন কিছুই এক মহাবিশ্ব থেকে অন্য মহাবিশ্বে যেতে পারবেনা! এমনকি আলোর পক্ষেও সম্ভব হবে না এক মহাবিশ্ব থেকে অন্য মহাবিশ্বে যাওয়া সুতরাং ইটার্নাল ইনফ্লেশনের ইকুয়েশনই হচ্ছে মাল্টিভার্সের একমাত্র ক্লু (Clue) , ফলে অনেক বিজ্ঞানী এই মাল্টিভার্স ধারণা সমর্থন করেন না, তবে ইটার্নাল ইনফ্লেশন ছাড়াও আরো দুইটি ভিন্ন বিষয় থেকে মাল্টিভার্স ধারণার পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায় একটি হচ্ছে এ স্ট্রিং থিওরি (String theory) অন্যটি হচ্ছে ডার্ক এনার্জি (dark energy) স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী সকল মৌলিক কণা মূলত হচ্ছে কিছু টাইনি ভাইব্রেটিং এনার্জি যাকে বলা হয় স্ট্রিং, স্ট্রিং গুলোর বিভিন্ন ভাইব্রেশন ফলে বিভিন্ন কনার সৃষ্টি হয়! কিন্তু স্ট্রিং থিওরী অনুযায়ী স্ট্রিংয়ের ভাইব্রেশনের জন্য প্রয়োজন মোট দশটি ডাইমেনশন (Dimensions) অর্থাৎ আমাদের পরিচিত তিনটি ডাইমেনশনের বাহিরেও আরো সাতটি ডাইমেনশন! এখন স্ট্রিং থিওরি থেকে এসব এক্সট্রা ডাইমেনশনের আকার কেমন হবে তার ধারণা পাওয়া যায় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এক্সট্রা ডাইমেনশনের সম্ভাব্য আকারের সংখ্যা অসংখ্য, শুধু অসংখ্য বলা ঠিক হচ্ছে না এর চেয়েও অনেক বেশি! সংখ্যাটি হচ্ছে টেন টু দি পাওয়ার ফাইভ হান্ড্রেড (10⁵⁰⁰) সুতরাং বুঝতেই পারছেন এক্সট্রা ডাইমেনশনের সম্ভাব্য আকারের সংখ্যা কত বিশাল! 10⁵⁰⁰ টি বিভিন্ন ধরনের সেপ (Shape) এবং প্রত্যেকটি সেপ বা আকার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেহেতু প্রত্যেকটি সেপ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফলে এখান থেকে মাল্টিভার্স এর ধারণাটি আবার সামনে আসে! অনেকে মনে করেন এক্সট্রা ডাইমেনশনের এই অসংখ্য সেপ এর মধ্যে কোন একটি সেপ রয়েছে আমাদের এই মহাবিশ্বে! এবং প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা সেপের জন্য হয়তোবা রয়েছে আলাদা আলাদা মহাবিশ্ব! অর্থাৎ অসংখ্য অথবা অসীমা বিশ্বের মধ্যে একটি স্পেসিফিক মহাবিশ্বে হয়তোবা স্ট্রিং ভাইব্রেশনের জন্য একটি স্পেসিফিক সেপ রয়েছে, সুতরাং স্ট্রিং থিওরীর এক্সট্রা ডাইমেনশন থেকে মাল্টিভার্সের ইঙ্গিত পাওয়া যায়! অন্যদিকে ডার্ক এনার্জির সম্পর্কে হয়তোবা আপনারা অনেকেই জানেন যাইহোক প্রথমে বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন আমাদের মহাবিশ্বের প্রসারণ হয়তোবা সময়ের সাথে সাথে কমে আসবে কিন্তু তারা অবজারভেশন (observation) এর মাধ্যমে দেখতে পান মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এর গতি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু এই সম্প্রসারণ এর গতি বৃদ্ধির কোনো ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল না, তারা বুঝতে পারছিলেন কোনো এক ধরনের শক্তি গ্রাভিটি এর বিপরীতে কাজ করছে ফলে মহাবিশ্বের প্রসারণ এর গতি প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে বিজ্ঞানীরা এই অজানা শক্তির নাম দেন ডার্ক এনার্জি (Dark Energy) কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অবজারভেশন এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা যে পরিমাণ শক্তির উপস্থিতি পেয়েছেন এবং থিউরিটিক্যাললি (Theoretically) যে পরিমাণ ডার্ক এনার্জি পাওয়া উচিত তার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য দেখা যায়! কেন থিওরি এবং অবজারভেশন এই দুই ক্ষেত্রে ডার্ক এনার্জি মধ্যে এরকম হিউজ (Huge) ব্যবধান পাওয়া যাচ্ছে তা এখনো মর্ডান সাইন্সের জন্য একটি বিশাল রহস্য! তবে আমরা যদি ইউনিভার্স এর পরিবর্তে মাল্টি ইউনিভার্স এর ধারণাটি সামনে নিয়ে আসি তবে ডার্ক এনার্জির এই রহস্যকে আর রহস্য মনে হয় না, মাল্টিভার্স অনুযায়ী যেহেতু মহাবিশ্বের সংখ্যা অসীম ফলে একেকটি মহাবিশ্বে ডার্ক এনার্জির পরিমাণ একেক রকম হবে কোনোটিতে আমাদের চেয়ে বেশি যার ফলে হয়তো বা সেখানে স্টার বা গ্যালাক্সি তৈরি হবে না আবার কোনোটিতে হয়তোবা আমাদের চেয়ে কম ফলে সেখানে হয়তো বা মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে সংকুচিত যাবে যাইহোক ডার্ক এনার্জি, স্ট্রিং থিওরি ও ইটারনাল ইনফ্লেশন তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয় কিন্তু একই দিকে ইঙ্গিত করছে এবং সেটি হচ্ছে মাল্টিভার্স! বর্তমানে মাল্টিভার্স নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয় বিজ্ঞানীদের মধ্যে সেইসাথে একটি বিষয় আমাদেরকে মাথায় রাখতে হবে ম্যাথমেটিক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতির আচরণ বোঝার জন্য যেমন আলবার্ট আইনস্টাইন (Albert Einstein) জেনারেল রিলেটিভিটি (General relativity) এর ম্যাথ দুটি বিষয়ে প্রেডিকশন করেছিল একটি হচ্ছে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে এবং অন্যটি হচ্ছে ব্ল্যাক হোল কিন্তু সে সময় আলবার্ট আইনস্টাইন নিজে এই দুটি প্রেডিকশন বিশ্বাস করতে পারেননি পরবর্তীতে অবজারভেশন এর মাধ্যমে এই দুটি বিষয় কিন্তু সত্য প্রমাণিত হয় ঠিক তেমনি মাল্টিভার্স এখনো শুধুমাত্র ম্যাথমেটিক্যাল প্রেডিকশন! মাল্টিভার্স আসলে এক্সিস্ট (Exist) করে কিনা তা অবজারভেশন থেকেই প্রমাণিত হয়, তবে মাল্টিভার্স এমন একটি ধারণা যা অবজারভেশন এর মাধ্যমে প্রমাণিত করা প্রায় অসম্ভব বলা যায় তবে কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড অর্থাৎ সিএমবি (CMB) একটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে মাল্টিভার্স এর অস্তিত্ব প্রমাণ করার ক্ষেত্রে যদি আমাদের মহাবিশ্বের সাথে অন্য কোন মহাবিশ্ব সংস্পর্শে আসে কিংবা সংঘর্ষ হয় তবে এই কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ডে পরিবর্তন আসবে যার মাধ্যমে মাল্টিভার্স ধারণা প্রমাণ করার সুযোগ তৈরী হতে পারে! তবে আপাতত মাল্টিভার্স শুধুমাত্র একটি হাইপোথিসিস, যাইহোক এখন যদি মাল্টিভার্স সত্যিই থেকে থাকে তবে আপনার-আমার ডুবলিকেট থাকাটা খুবই স্বাভাবিক, মনে করুন চারজন মানুষ কার্ড খেলছে ফলে চারজন মানুষের হাতে চারটি ভিন্ন কম্বিনেশনের কার থাকবে পরবর্তী রাউন্ডে চারজন মানুষের হাতে একই কম্বিনেশনের কার্ড আসার সম্ভাবনা খুব কম তবে শূন্য নয়! 
কিন্তু এক-দুই রাউন্ড নয় যদি অসীম সংখ্যক বার রাউন্ড পরিচালনা করা হয় তবে কোন এক রাউন্ডে প্রথম কম্বিনেশনের কার্ড চারজনের হাতে আসা খুব স্বাভাবিক বিষয়, তেমনি মাল্টিভার্স হাইপোথিসিস অনুযায়ী যেহেতু মহাবিশ্বের সংখ্যা অসীম ফলে কোন একটি মহাবিশ্বে আমাদের মত সোলার সিস্টেম থাকাটা খুবই স্বাভাবিক! আবার কোন একটিতে আমাদের মত সোলার সিস্টেম সেই সাথে একদম আমাদের মত পৃথিবী এবং সেইসাথে আমার আপনার মত হুবহু মানুষ থাকাটা স্বাভাবিক!
সেখানে হয়তোবা আমার আপনার যে ডুব্লিকেট মানুষ রয়েছে তাদের পেশা ভিন্ন হতে পারে সুতরাং মাল্টিভার্স হাইপোথিসিস অনুযায়ী আপনি আমি আমাদের আশেপাশের কোন কিছুই ইউনিক নয় অর্থাৎ অনন্য বা মাস্টারপিস (Masterpiece) বলতে কিছুই নেই! আরেকটি বিষয় মাল্টিভার্স এ অবস্থান করা ইউনিভার্স গুলো কে বলা হয় প্যারালাল ইউনিভার্স (Parallel Universe)
কখনো অল্টারনেটিভ ইউনিভার্স (Alternative Universe) আবার কখনো মেনি ইউনিভার্স (Many universe) আরেকটি বিষয় মাল্টিভার্স এর মধ্যে বিভিন্ন ইউনিভার্স গুলো কিভাবে অবস্থান করবে এই ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত রয়েছে এর মধ্যে একটি মতামত হচ্ছে প্যারালাল ইউনিভার্স এই প্যারালাল ইউনিভার্স মতামত অনুযায়ী মহাবিশ্ব গুলো সমান্তরালে অবস্থান করবে, স্ট্রিং থিউরি এমন একটি বিশেষ ধারণা যা কারো কাছে শুধুমাত্র একটি সাইন্স ফিকশন (Science fiction) আবার কারো কাছে এটা দা থিওরি অফ এভরিথিং (The theory of everything) .
তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন দেখা হচ্ছে পরবর্তী পোস্টে ধন্যবাদ!
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url